Friday, 27 March 2015

Story: বিচক্ষণ বিচারক হযরত আলী (রাঃ)

বিচক্ষণ বিচারক হযরত আলী (রাঃ)"
দুইজন পথিক রাস্তা চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের নিচে বসেন আরাম করার জন্য,উভয়ে পোটলা থেকে খাবার বের করল খাওয়ার জন্য,একজনের নিকট রুটি হল তিনটা,আর অপর জনের নিকট পাঁচটি,ইতি মধ্যে একজন মুসাফির এল,তাকেও তারা খানায় শরিক করে নিল,খাবার শেষে মুসাফির আটটি টাকা দিয়ে গেল,এই টাকা বন্টন নিয়ে দুজনের মধ্যে লেগে গেল ঝগড়া,
পাঁচ রুটি ওয়ালঃ আমার রুটি যেহেতু পাঁচটি তাই আমি পাঁচ টাকা নেই,আর তুমি তিন টাকা নাও,যেহেতু তোমার রুটি তিনটি।
তিন রুটি ওয়ালাঃ না,তা হবেনা,বন্টন হবে সমান সমান।এক পর্যায়ে উভয়ে আলী (রাঃ)এর নিকট উপস্থিত হল ফয়সালার জন্য,
আলী (রাঃ)-( তিন রুটি ওয়ালাকে উদ্যেশ্য করে,) সে যেহেতু তোমাকে তিন টাকা দিতে চায় নিয়ে নাও।
তিন রুটি ওয়ালাঃ হুজুর, আপনার কাছে এলাম ন্যয় বিচারের জন্য,আর আপনিও বলছেন,দেয় যেহেতু নিয়ে নাও,তার মানে না দিলে আমি পাবনা?
আলী (রাঃ) না,না দিলে আপনি পাবেননা,দেখুন,ইসলামের বিচার দুই ধরনের,১,আপোষের বিচার,২, ইনসাফের বিচার,আপষের বিচার যদি মানেন তবে তিন টাকা নিয়ে নিন।আর যদি ইনসাফ ভিত্তিক বিচার চান,তবে আপনি পাবেন এক টাকা,আর সে পাবে সাত টাকা।
তিন রুটি ওয়ালাঃ অবাক হয়ে,আমি ইনসাফের বিচার দেখতে চাই,কি ভাবে এক টাকা পাই?
আলী (রাঃ) আপনারা মানুষ তিনজন,আর রুটি হল আট টি,একটা রুটি তিনজনে খেলে তিন টুকরা হয়, এভাবে আট রুটির টুকরা হল চব্বিশটি , সমান ভাগ করলে একেকজনের পেটে আছে আট টুকরা করে,এবার হিসেব করে দেখুন,আপনার তিন রুটির নয় টুকরার মধ্যে আপনি খেয়েছেন আট টুকরা,আর মেহমান আপনার থেকে এক টুকরা খেয়েছে।
পক্ষান্তরে পাঁচ রুটি ওয়ালার টুকরা হল ১৫টি,আর সে নিজে খেয়েছে আট টুকরা,আর মেহমান খেয়েছে তার থেকে সাত টুকরা।
অতএব প্রতি টুকরায় এক টাকার হিসেবে সে পাবে সাত টাকা,আর আপনি এক টুকরার জন্য পাবেন এক টাকা।
এই বিচক্ষণ বিচার দেখে উভয়ে আভিভূত হয়ে চলে গেলেন।

Monday, 16 March 2015

Story: এক ছাত্র শুধুই “গরু” রচনা জানতো

এই গল্প বোধ হয় সবাই জানি। সেই যে এক ছাত্র শুধুই “গরু” রচনা জানতো। ভরভর করে মুখস্ত বলতো “গরু একটি চতুস্পদী গৃহপালিত প্রানী। তার দুই চোখ, দুই কান, একটা লম্বা লেজ ছিলো। অবসর সময়ে সে জাবর কাটে…”
শিক্ষক একবার রচনা লেখতে দিলেন “আমাদের গ্রাম”। ছাত্র লিখলেন “ আমাদের গ্রাম খুব সুন্দর গ্রাম। এখানে মাঠ আছে। মাঠে গরু চরে। গরু একটি চতুস্পদী গৃহপালিত প্রানী। তার দুই চোখ, দুই কান, একটা লম্বা লেজ ছিলো। অবসর সময়ে সে জাবর কাটে…
পরের দিন শিক্ষক দিলেন “বাংলাদেশের নদ নদী” ছাত্র লিখলো...”বাংলাদেশের অনেক নদ নদী। প্রতিটা নদীর পাশেই মাঠ আছে। সেখানে গরু চলে। গরু একটি চতুস্পদী গৃহপালিত প্রানী। তার দুই চোখ, দুই কান, একটা লম্বা লেজ ছিলো। অবসর সময়ে সে্ জাবর কাটে…”
শিক্ষক মহা চিন্তায় পড়লেন।অনেক ভেবে এবার লিখতে দিলেন “ বিজ্ঞান আশির্বাদ না অভিশাপ” ছাত্র উত্তর লিখলো “বিজ্ঞান আশির্বাদ না অভিশাপ? এটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন। কিন্তু বিজ্ঞান কি? জ্ঞান কি? সবার জ্ঞান এক নয়। আমার জ্ঞান আর একটা গরুর জ্ঞান এক নয়। গরু একটি চতুস্পদী গৃহপালিত প্রানী। তার দুই চোখ, দুই কান, একটা লম্বা লেজ ছিলো। অবসর সময়ে সে জাবর কাটে…”
প্রিয় রাজনীতিবিদ গন, আপনাদের কারো জানা রচনার নাম “মুক্তিযুদ্ধ” কারো জানা রচনার নাম “ইসলাম” কারো জানা রচনার নাম “গনতন্ত্র”। সেইসব আমাদেরও জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন রচনা , কোন সন্দেহ নাই। কি তু যেখানে সেখানে অযাচিত ভাবে শুধু এক রচনা বলেই যদি মাফ পেতে চান তাহলে আমাদের সেই গরু রচনার লাইন গুলোই মনে পড়ে...
গরু একটি চতুস্পদী গৃহপালিত প্রানী। তার দুই চোখ, দুই কান, একটা লম্বা লেজ ছিলো। অবসর সময়ে সে জাবর কাটে…
আপনাদের জাবর কাটা আর কত???

Story: এক স্কুল শিক্ষিকা ক্লাস রুমে ঢুকেই ডান হাত উচু করে সবার সামনে মেলে ধরলেন

নিজের নানা অপ্রাপ্তি নিয়ে হতাশায় ভুগছেন? একের পর এক সমস্যার কুটিল গর্তে পড়ে জীবন টাকে ভঙ্গুর মনে হচ্ছে? তাহলে আসুন একটা গল্প শোনাই।
এক স্কুল শিক্ষিকা ক্লাস রুমে ঢুকেই ডান হাত উচু করে সবার সামনে মেলে ধরলেন। তার হাতে ১০০০ টাকার একটি নোট শোভা পাচ্ছে। সবার মুখের দিকে এক এক করে তাকিয়ে হঠাত তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "কে চাও এই এক হাজার টাকার নোট টা?"
সবাই সাথে সাথে হাত তুললো।
শিক্ষিকা মুচকি হেসে বললেন, এই টাকা আমি একজন কে দিব। কিন্তু দেবার আগে একটি কাজ বাকি আছে। কথা শেষ করেই তিনি নোট টা পা দিয়ে মেঝের সাথে পাড়াতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর নোট টি হাতে নিয়ে আবারো একই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "কে চাও এই নোট টা?"
যথারীতি সবাই হাত তুললো।
শিক্ষিকা এবার নোট টি তার ধুলোমাখা স্যান্ডেল দিয়ে পাড়াতে লাগলেন। কাজ শেষ করে তিনি নোট টি আবারো হাতে তুলে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "কে চাও এই নোট টা?"
সবাই হাসিমুখে হাত তুললো নোট টি নেবার জন্য।
শিক্ষিকা সন্তুষ্ট চিত্তে চারদিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমরা আজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস শিখলে। আমি ১০০০টাকার নোট টিকে যতই নোংরা করিনা কেন, তোমরা তারপরও ওটা পেতে চাইছো কারন নোংরার কারনে টাকার মুল্যমান কমে যায়নি। স্যান্ডেলের নোংরার নিচে দলিত মথিত করার পরও ওটা তখনও এক হাজার টাকার নোট ই রয়ে গেছে। তোমরাও এক হাজার টাকার এই নোটটার মতই, যা কিছুই ঘটুক তোমাদের মুল্য এতটুকু কমবেনা"।
ঠিক তেমনি, আমাদের জীবনেও খারাপ সময়গুলোতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলে, গায়ের কালো রং, কম উচ্চতা, রোগা শরীর কিংবা নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশায় ভুগে আমরা নিজেদের কে মুল্যহীন ভাবতে থাকি। কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে, আপনার যত অপ্রাপ্তিই থাকুক না কেন, আপনি আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবেই থাকবেন। জীবনের অপ্রাপ্তি গুলো আপনার মুল্য এতটুকু কমাতে পারবেনা।
এবং যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস টা আপনি ভুলে যান সেটা হলো- আপনি এক হাজার টাকার নোট নন, আপনি কয়েক হাজার কোটি টাকার একটা জীবন্ত সম্পদ!
ইয়াপ, ইউ! ইউ আর ড্যাম স্পেশাল! নেভার এভার ফরগেট ইট!