Wednesday, 28 November 2012

Story: এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন।

এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক সিংহ তার
পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর
গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন। তিনি চোখ বন্ধ
করে দিলেন ঝাঁপ। পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত
দড়ি দেখে তা খপ করে ধরে ফেললেন। এবং ঐ অবস্থায়
ঝুলে রইলেন। উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার
মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার
অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ
হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটিকালো ইঁদুর তার
দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে। এমন হিমশিম অবস্থায়
কি করবেন যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তার
সামনে কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক
দেখতে পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের
মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর
মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তের জন্য উপরের
গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ,আর
দড়ি কাঁটা ইঁদুরদের কথা ভুলে গেলেন। ফলে তার বিপদ
অবিশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো।
এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, যে সর্বক্ষণ আমাদের
তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সাপটি হচ্ছেকবর। যা আমাদের
অপেক্ষায় আছে। দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয়
করেই বেঁচে থাকা। সাদা ইঁদুর হল দিন, আরকালো ইঁদুর হল
রাত, যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদেজীবনের আয়ু
কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই
মৌচাক হল দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ
করে দেখতে গেলেও আমাদের এই চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের
কথা ভুলে যাওয়াটা বাধ্য।

Friday, 7 September 2012

Story: স্বপ্ন আমার স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ


স্বপ্ন আমার স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ
শুনেছি মানুষ না খেয়ে প্রায় চল্লিশ দিন, কোনো পানি ছাড়া তিন দিন, কোনো বাতাস ছাড়া আট মিনিট বাচতে পারে কিন্তু আশা ছাড়া মানুষ এক সেকেন্ড ও বাচতে পারে না। কিভাবে আশা করতে হয়, কিভাবে ভরসা রাখতে হয়, কিভাবে স্বপ্ন দেখতে হয় বাবার কাছ থেকেই শিখা।পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা, বড়দের সালাম করা, ছোটদের স্নেহ করা, আমার জীবনের সব কিছু আমার বাবা ও মায়ের কাছ থেকে শিখা। আমার বাবা দিন পচিশ টাকা আয় করতেন আমার ছোটবেলায়। আমার বাবার এই সীমিত আয় ও নিয়মিত ছিল না গ্রাম্য রাজনীতি, হিংসা প্রতি-হিংসার জন্য। আমি আমার দাদীর ঘরে ঘুমাতাম নিজেদের ঘরে জায়গা হত না বলে।

ছোটবেলা থেকেই বাবা নানা রঙের স্বপ্নের কথা বলতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হব, বড় চাকুরী করবো, পাচ তলা বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, মা-বাবার সেবা করবো, সমাজের সেবা করবো। আমরা যখন গ্রামে থাকতাম, আমাদের থাকার ঘরটা যখন ছনের তৈরি ছিল তখনই আমাদের বাড়িতে শহরের মত কনক্রিট এবং লোহার গেট ছিল। মানুষ অনেক সময় হাসা-হাসি করত আর বলত যে টাকা দিয়ে গেট বানানো হয়েছে সে টাকা দিয়ে থাকার ঘরটা মেরামত করা যেত।

আমার বাবা ছিল আমার কাছে amassador এর মত। অনেক সময় এমন মানুষের মুখোমুখি হই যাদের কে আমার চেনার কোনো কারণ নাই অথচ আমাকে চিনে। আমাকে নিয়ে বাবা এতই গর্ব করতেন যে মানুষ বিরক্ত হবার ভাব করলে তাদের সাথে ঝগড়া লেগে যেত। তাদের কাছ থেকে উল্টো প্রশংসা না শুনা পর্যন্ত তাদের কে ছাড়তেন না। আমার কাপড়-চোপর সব কিছুর দিকেই খেয়াল রাখতেন। আমার কোনো নোংরা কাপড় থাকলে আমি বাসা থেকে বের হওয়া মাত্র ধুয়ে শুকিয়ে iron করে রাখতেন।

আমার মা খুবই শান্ত, ধার্মিক মানুষ এবং সব সময় ঝামেলা এড়িয়ে চলতেন। University তে ভর্তি হবার পর দু-তিন মাস পর পর বাসায় আসতাম মা তখন উনার খুটি-নাটি না বলা কথা আমার সাথে share করতেন। বাবা আমার মায়ের সাথে এই সুন্ধর সময় টুকুও সয্য করতে পারতেন না। বাবার খুব হিংসে হত তারপর শুরু হত মাকে জেরা করা - কেনো তুমি এখনো ঘুমাওনি? কেনো এই কাজ টা করনি? আমার ছেলের শরীরটা খারাপ হয়ে যাবে ওকে ঘুমাতে দাও। আমাকে কিছুই বলতেন না। বাসায় আসতে একটু দেরী হলে মার কাছে শুনতাম আব্বু খুব রেগে আছেন কিন্তু মা না বলা পর্যন্ত আমি সেটা বুঝতাম ই না। আমাকে কখনই জিগেশ করেনি কেনো আমি লেট করলাম।

আমাদের টানাটানির সংসারে আমি কখনই বুঝতে পারিনি অভাব কি জিনিস? আমি যত টাকা ই চাইতাম কখনোই না করেননি আমার বাবা, ছোট করে শুধু জিগেশ করতেন কেনো? আমি যখন প্রথম কম্পিউটার কিনতে চাইলাম বাবার কাছে টাকা ছিল না। আমাদের তখন টিনের বড় ঘর ছিল বাবা সেটা বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। আমার ইংল্যান্ড আসার সময় টাকা ছিল না বাবা তখন জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। আমাদের গ্রামের ছনের ঘর থেকে এখন আমাদের মফস্বল নিজেদের একটি বাড়ি ও বানিয়েছেন।

আমার বাবার সব স্বপ্ন আমি এখনো পূরণ করতে পারিনি। আমি কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাস করেছি, লন্ডন এ IT তে job করছি। আমি সবে মাত্র রেস্পন্সিবিলিটি নিতে শুরু করেছি। বাবার সাথে

Tuesday, 28 August 2012

Story: উদাসীন আমি

উদাসীন আমি...... (প্রথম পর্ব) 

সেই কবে থেকে তুমি আমার ফ্যান্টাসি। ছেলেবেলায় কাবাডি খেলতে গিয়ে যখন তোমার ঘেমো ঋজু শরীর টা আমার হাতের বেড় গলে বেরিয়ে যেত,আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম । তুমি ঘুরে গিয়ে দাঁত বের করে হাসতে হা হা করে তারপর বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলতে, “মুটকি তোর দ্বারা হবেনা আমায় ধরা” ।আমি আমার গোল আলুর মতো চেহারা টা নিয়ে হাঁসফাঁশ করতে করতে আবার তোমার পেছনে ছুটতাম। 
পুকুর পাড়ে বসে মহম্মদ জাফর ইকবাল এর কল্পকাহিনী পড়তে বসলেই তোমার কাজ ছিল আমায় পেছন থেকে এসে এক ধাক্কা মেরে বই কেড়ে নেওয়া। উল্টে পাল্টে দেখে একটা গা জ্বালানী হাসি দিয়ে মুখ ভেংচে বলা... “বাচ্চা তো বাচ্চাই রয়ে গেলি ,এই সব ভাটের জিনিসপত্র পড়া । পড়তে হলে রোমান্টিক পড় না”। জাফর ইকবাল কে নিয়ে কেউ বাজে কথা বললে আমার তার কান টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আর তোমার অতো সুন্দর কান,ছুতে পারলে তো ধন্যই হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি শুধু রাগে দাঁত কিড়মিড় করা ছাড়া আর কিছু করার সাহস কুলিয়ে উঠতে পারতাম না।
তুমি এত আদুরে ছিলে। তোমার ঐ হাসি ,ঐ চোখের চাহনি পাগল করে দিতো। মন করতো সারাদিন তোমার পিছে পিছে ঘুরে বেড়াই। বাচ্চা বলে গণ্যই করতে না একদম। কতই বা বড় ছিলে আমার বল তুমি? মাত্র তিন বছর। তাতেই জা ভাব। হু...আমি একটু ইঁচড়ে পাকা হবার আশায় একদিন তোমায় জিজ্ঞেস করলাম, এত রোমান্টিক পড়, নিশ্চয়ই বড় হয়ে প্রেম করবে। কেমন মেয়ে পছন্দ তোমার? তুমি একটা গাছের ডাল ধরে বাঁদরের মত ঝুলতে ঝুলতে বললে তোর মত।
আমার তো হৃদপিণ্ড টাই ফেটে যাবার দশা। তুমি তো মনের আনন্দে গাছের ডাল টার ওপর অত্যাচার চালাচ্ছিলে , এদিকে আমার যে দাড়িয়ে দাড়িয়ে একশ চার ডিগ্রি জ্বর উটে গেল তার তো খেয়াল ও রাখলে না। 
১৩ বছর বয়সে পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়োতে থাকা হৃদপিণ্ড টা কে বুকের খাঁচায় আঁটকে রাখার চেষ্টা করতে করতে বিছানাতে আশ্রয় নিলাম। প্রেম ভালবাসা তো বড়দের ব্যাপার। crush শব্দ তা তো তখন ফ্যাশন এ ও আসেনি। তো আমার এ কি হল???? এরপর তোমাকে দেখলেই আবার বুকে দামামা বাজত। এত জোরে জোরে, ভয় হতো , তুমি শুনে না ফেল আবার। তুমি কিন্তু সুখেই ছিলে। মাঝে মাঝে মাথায় গাঁট্টা, আর গাল টেনে বলা, মুটকি, শেম শেম ,আমার গাল তো তোর থেকে নরম। দ্যাখ দ্যাখ, ধরে দ্যাখ।
বাবার transfer হল, আমারও প্রেমের অবসান ঘটলো, অন্তত আমি তাই ভাবলাম। ১০ বছর, তুমি কোথায়, আর আমি কোথায়। মনের কোণায় কখনো উঁকি মারতাম। ওরে বাবা, তুমি তো গেঁড়ে বসেই আছ। কি করি কি করি। একজন প্রপোজ করলো, আমি তার সাথে প্রেম করতে গেলাম। প্রেম তো জমলই না। উল্টে feminist হয়ে গেলাম। ছেলেদের প্রতি জনম বিদ্বেষ তৈরি হল। ফেভারিট বাক্য হয়ে গেল “শালা সব ছেলেগুলোই খচ্চর”। তাই শাপলা চত্বর এর মোড়ে যখন পেছনের রিক্সার ধাক্কা খেয়ে রাগে আগুন, তেলে বেগুন হয়ে বাঘিনীর মতো নামলাম পুরুষ জাত টা কে গালি দিয়ে ভূত বানাতে, তখন যে কি কারণে মেনি বিড়াল এ পরিণীত হয়েছিলাম এখনও বন্ধুরা তার উত্তর হাতড়ে মরে। 
সেদিন রিকশায় বসা ছেলেটা ছিলে তুমি। সেই তুমি। আমার পাগলা ঘোড়া ফেরত এলো। হাত পা পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে গেল যেন। তুমি কিন্তু চিনলে না। চিনবে কি করে, মুটকি তো এখন মডার্ন এজ এর চক্করে পড়ে শুঁটকী হয়েছে।
ঘাড় পর্যন্ত বব কাট চুল এখন স্টেপ কাট এ কোমর পর্যন্ত। স্কার্ট আর টপস ঘেরাটোপ ছেরে সালওয়ার কামিজ দোপাট্টা তে আবৃত । তুমি আর তাকিয়েও দেখলে না। বন্ধুর তাড়া খেয়ে যখন রিকশায় উঠলাম তখন তোমার রিকশা টা বেরিয়ে গেল আমাদের পেছনে ফেলে।
University র গেটের বাইরে আবার দেখা। রিকশার অপেক্ষাতে দাঁড়ানো। নাহ, আর সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। গটগট করে গিয়ে পাশে দাড়িয়ে বললাম, আগের থেকেও ভাল দেখতে হয়ে গেছো দেখছি। তুমি চোখ কপালে তুলে হা হয়ে আমার দিকে তাকালে, ভাব খানা এমন , কি বেশরম মেয়েরে বাবা।
আমি এবার তোমার দিকে তাকিয়েই থাকলাম। দেখছিলাম তোমার ওই কালো মণি দুটো আমার মুখে আঁতিপাঁতি করে কিছু খুঁজছে। আমি দম বন্ধ করে দাড়িয়ে ...। পারবে তো? 
হটাত তুমি চেঁচিয়ে উঠলে ... মুটকি তুই? আমার তখন ধিন ধিন তাধিন নাচতে ইচ্ছে করছিল। তোমার দৃষ্টি তখন আমার আপাদমস্তক এ ঘুরে বেড়াচ্ছে । তুমি তোতলাতে তোতলাতে কোনমতে বললে, এত change???
যাই হোক, সেদিন থেকে দেখা সাক্ষাত শুরু আবার। আগের থেকেও বেশী আদর করা শুরু হল তোমার। আমি তো হাতে ঈদের চাঁদ পেয়েছি। কিন্তু অনেক বদলে গেছ তুমি। অনেক introvert. সেই আগের ছেলেটা যে কোথায় হারিয়েছে বুঝতেই পারছি না। কিন্তু এবার আমি স্মার্ট । এবার আর হারাতে দেব না আমি তোমায় পণ নিয়ে ফেললাম ।
একদিন দুপুরে তোমার ফোন। “মুটকি, কোথায় তুই? একটু দেখা করতে পারবি আজ? কিছু বলার ছিল”। শুনেই তো আমার হাওয়ায় ওড়া শুরু। নিশ্চয় প্রপোজ করবে। খুব সেজে গুজে গেলাম। প্রথম বার শাড়ী পরে । রমনা পার্ক আর বেঞ্চ এ বসা তুমি। মাথানিচু করে। হুম... ছেলে নার্ভাস মনে হছহে। মনে মনে বললাম, প্লীজ , আর অপেক্ষা করিয়ো না। এবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে না পারলে পাক্কা পাগলা গারদে গিয়ে বাস করতে হবে।
--“ ওহ, এসেছিস”? 
--“বল, কেন ডেকেছ”। 
--“মুটকি, আমি খুব কষ্টে আছি রে। আর পারছি না মনে এত কিছু চেপে রাখতে”।
আমি মনেমনে গজরাতে শুরু করলাম। কি যন্ত্রণা রে ভাই। এবার বলেই ফেল না। এত বছর পার করে দিলাম তোমার মুখ থেকে দুটো শব্দের আশায় । আমার কষ্ট কি কষ্ট না? 
--“কি হয়েছে বল”? 
--“তোকে বলিনি এতদিন, আমি একজন কে ভালবাসি, নিশা।আমাদের চার বছরের প্রেম। কিন্তু ওর বাড়িতে আমায় accept করবে না। আমি মরে যাচ্ছি রে মুটকি ভেতরে ভেতরে প্রতিনিয়ত”।
হুম...। সিনেমার গল্পের মত আমার মাথায় ও বাজ পড়ার কথা। এবং বাজ পড়ে আমার বাকশক্তি রুদ্ধ হয়ে যাবার কথা । কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় ক্যাবলামি টা করলাম আমি সেদিন রমনা পার্ক আর বেঞ্চি তে বশে। আমি আমায় বলতে শুনলাম...
--“বাবু,I LOVE YOU”


তুমি অবাক হয়ে হা করে আমার দিকে তাকালে। আর আমি তখন দ্বিতীয় ক্যাবলামি টা করলাম । সোজা উঠে উলটো দিকে ঘুরে দৌড় লাগালাম শাড়ীর আঁচল আর তোয়াক্কা না করে। বাইরে এসে প্রথম যে বাস টা পেলাম চড়ে গেলাম। বাস এর সবাই তাকিয়ে আছে আমার দিকে। একটা সুন্দর শাড়ী পরা মেয়ে, ঘেমে নেয়ে একশা হয়ে বাস আর হ্যান্ডল ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে ঝুলতে ঝুলতে কাঁদতে পারে, দৃশ্য টা না দেখলে বিশ্বাস করানো টা কঠিন। আর, আমার তো বরাবর ঈ কপাল খারাপ। বাস টাও ছিল আমার হোস্টেল এর উলটো দিকের রুট এর । নাহ, প্রেম টা সত্যি ঈ খারাপ জিনিস।

হোস্টেল এ ফিরে দেখি ফোন এ তোমার পঁচিশ টা মিসড কল । ফোন টা আবার বাজতেই দেয়ালে ছুঁড়লাম ফোন টা কে। আর্তনাদ করে ফোন এর আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হল। আমি তো তোমায় সব বলেছিলাম আমার ব্যাপারে... তুমি কেন লুকালে ? আমার ভেবে তোমায় পাগলের মতো ভালবেসেছি । তুমি আর কারও? 

লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমার । আমার রুমমেট রুবি ফোন এগিয়ে বলল, “নে তোর ফোন” । আমি কাট তে গিয়ে শুনলাম তুমি চীৎকার করছ। “প্লীজ প্লীজ ফোন কাটিস না। একটিবার এর জন্য আমায় কিছু বলতে দে” । আমি হার মানলাম।
--“ মুটকি, আমার একাকী জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী নিশা। অসম্ভব ভালবাসি আমি ওকে। কিন্তু তুইও যে কখন আমার আই ছন্নছাড়া জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছিস বুঝতেও পারিনি। আমি আমার ভালবাসার নীলপদ্ম নিশা কে দিয়ে দিয়েছি রে। আমি এখন কাঙাল । তোকে ঠকাতে চাইনা মিথ্যে আশার প্রলোভনে। তোকে পেয়ে বন্ধু পেয়েছিলাম ।শুধু অনুরধ... আমার কোনও বন্ধু নেই, আমার এই কষ্টের দিন এ অন্তত তুই আমায় ছেড়ে যাস না”। 

ফোন হাতে নিয়ে নিথর বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। এতোটা স্বার্থপর কিকরে কেউ হতে পারে? ওর ভালোবাসার ভাগ পাব না, কিন্তু ওর কষ্টের ভাগ নিতে হবে? আমি কি এতটাই মহান? 

সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে সকালে আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে গেলাম। এ কে? আয়নার প্রতিবিম্ব আঙুল তুলে আমার দিকে তাকিয়ে নির্মম ভাবে হাসতে লাগলো। এবার আমার পালা।
তোমার সাথে আবার দেখা হল। তুমি আবার সেই মাথা নিচু করে। আমি পাশে বসলাম। আজ প্রথমবার তোমার এলোমেলো চুলগুলো তে হাত বুলিয়ে দিতেই তুমি ঝরঝর করে কেঁদে ফেললে। বলতে লাগলে নিশার বাড়িতে কি চলছে, ওকে দেখার জন্য লোক আসছে, নিশা কত কান্নাকাটি করছে, তুমি কত নিরুপায়। আমি কিছুই শুনছিলাম না। শুধু তোমায় দেখছিলাম। বুক ভরা তৃষ্ণা , কিন্তু তুমি আর কারো । 
আজকাল প্রতিদিন ই এমন হয় । তুমি আমি দেখা করি, তুমি কাঁদ, আমি তোমার মাথায় বিলি কাটি । সাহস দেই, বুদ্ধি দেই, ভরসা দেই। বলি সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি পরম বিশ্বাস এ আমার হাত ধর। আমি মানা করি না। আমি শুধু দেখি তুমি কি অবলীলায় আমার ভালোবাসা টা কে অস্বীকার করে বন্ধুত্বের হাত দিয়ে আমায় ধরে আছ । আমি প্রতিদিন হোস্টেল এ ফিরে লাইফবয় দিয়ে হাত ধুই। তাও মনে হয় আমি ক্লেদাক্ত। প্রতিদিন একটু একটু করে আমার আত্মার একটি অংশ প্রাণ হারায়। 

বাইরে আজ মেঘলা। একটা exhibition দেখতে যাবার কথা আমাদের। আমি বেরিয়ে আসি। তোমার আমার সাথে রিকশায় চড়তে ভয়। নিশা গাড়ি করে বেরিয়ে তোমায় যদি আমার সাথে দেখে ফেলে। তাই আমি আলাদা পৌছাই , তুমি আলাদা পৌছাও । প্রদর্শনী শেষে বেরতেই ঝুম বৃষ্টি। তুমি আমার হাত ধরে টান দিয়ে বল, মুটকি দৌড়ও , নাহলে পুরপুরি ভিজে কাক হয়ে যাব দুজনে। কালো মেঘে অন্ধকার আকাশের গর্জন । ঢাকার রাস্তা জনশূন্য। মনে হল আমরাই সেই একমাত্র পাগল যারা ঢাকার রাস্তায় বোকার মত দারিয়ে আছি। 
আমি অনেকদিন পর হাসলাম। প্রাণখোলা হাসি । আমার হাসি শুনে তুমি দাড়িয়ে যাও । প্রথমবার তোমায় দেখলাম আমায় দেখছ ভাল করে । আমার প্রশ্নভরা চোখ তোমার চোখের অজানা ভাষা পড়ার আগেই অনুভব করি তোমার তপ্ত নিঃশ্বাস আমার ঠোঁটের উপর। তোমার বাঁ হাতে বেড় দেওয়া আমার কোমর , তোমার বুকে সেঁটে যাওয়া আমার শরীর আর তোমার অন্য হাতে আলতো তুলে ধরা আমার বাঁ গাল। তোমার ঠোঁট যখন আমার ঠোঁটের আনাচে কানাচে ঘুরে বেরানো তে ব্যাস্ত... তখন কি তুমি বুঝতে পেরেছিলে কতটা ঘেন্নায় আমার ভেতরটা কুঁকড়ে যাচ্ছিলো? আমি মানা করিনি। তুমি ঘোরের মাঝে বুঝতেও পারনি যে আমার ঠোঁট শুধু একটা মর্গের dead body’র অংশ হয়ে ছিল। সাড়াহীন ...মৃত। 

পরদিন আবার দেখা। নাহ, তুমি আমার আশাভঙ্গ করনি। সেই পুরানো ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তোমার আজ প্রচণ্ড মনখারাপ । তুমি পাগলের মত কাঁদছ। আজ নিশা তোমায় শেষ বারের জন্য কল করেছে। বলেছে ওকে ভুলে জেতে। যেন কালকের দিনটা তোমার স্মৃতি থেকে একদম মুছে গেছে। যেন গতকাল কখনো ছিলই না। আমি তোমার কান্না দেখছিলাম । তোমার বুকফাটা কান্না । 
তুমি এক ঘনটা কেঁদে ফিরে গেলে। আমিও ফিরে এলাম। অনেকদিন পর বাথরুম এ দেড় ঘণ্টা কাটালাম। আজ সাঁজতে ইচ্ছে করছে। খুব সুন্দর করে সাজলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারলাম। ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়া হল ।আজ বন্ধুরা অনেকদিন বাদে তাদের পুরনো বান্ধবী কে পেয়ে খুব খুশি। রুবি তো বলেই বসলো , কি ব্যাপার boss, আজ তো দেখছি পুরো পালিশ হয়ে এসেছ, good news আছে নাকি কোনও? আমি ওকে দেখে রহস্যময় একটা হাসি দিলাম। অনেকদিন পর শান্তিতে ঘুমলাম আজ।

“আমার সারাটা দিন , মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম ...” –-- তুমি কল করেছ... আজ একমাস পর। 
--“মুটকি , কেমন আছিস?”
--“এতদিন বাদে বুঝি মনে পড়লো আমায়”?
--“লুকিয়ে ছিলাম রে, জীবন থেকে, মাথার তার কেটে গিয়েছিল যেন” ।
--“তো আজ হটাত?”
--“তোকে অনেকদিন দেখিনি, দেখা করবি আজ?”
--“as you wish”

অনেকদিন পর আবার সেই বেঞ্চ এ তুমি আমি । তুমি হলুদ পাঞ্জাবী তে, আমি সবুজ শাড়ী তে। আমি আসতেই উঠে দাঁড়ালে তুমি । এমন তো কখনো করোনা তুমি। আজ কি হল? 
--“ খুব মানিয়েছেরে তোকে এই শাড়ীতে”।
প্রথমবার তোমার মুখে আমার প্রশংসা শুনলাম । পাগলা ঘোড়া টা কোথায় আজ? 
--“কিছু বলবে”?
--“ নিশা চলে যাবার পর নিঃস্ব হয়ে গেছিরে। এত যন্ত্রণা , তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমি বাঁচতে চাই রে। আর আমি এটা বুঝেছি, তোর সাথে ছাড়া আর কারো সাথে আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব না। তুই একমাত্র সেই মেয়ে যে আমার কষ্টে আমায় সঙ্গ দিয়েছে। তুই সব জানিস। তুই সব বুঝিস । নিশা কে ভুলতে পারব না তুই জানিস। প্লীজ আমায় নতুন জীবন আ ফিরিয়ে নিয়ে আয় তুই ...”। 

অনেকগুলো কথা একসাথে বলে থামলে তুমি। আমি তখন আমার পাগলা ঘোড়ার খোঁজে ব্যস্ত। আমি জানতাম সেই ঘোড়া টা সেদিন ই হারিয়ে গিয়েছিল যেদিন আমি তোমাকে ভালবাসি বলেছিলাম । 
আমি উঠে দাঁড়ালাম । তুমি তাকালে প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে। আশা ভরা চাহনি নিয়ে। প্রতীক্ষারত দৃষ্টিতে ।

- “পৃথিবী তে সবাই জানে শুধু দুই ধরণের feelings হয় । ভালবাসা এবং ঘৃণা । কিন্তু কেউ জানে না এ ছাড়াও আরেক ধরনের অনুভূতি আছে । ওটা কে বলে Indifference যার বাংলা মানে হচ্ছে উদাসীনতা । আমি ভালবাসতাম তোমায় , ভালবাসা মরে গেছে বাবু। যা বেঁচে আছে তা হল indifference. তুমি আমার যোগ্য নও। infact তুমি কারর ই যোগ্য নও। 
আমি নিশার বিকল্প নই”।

তোমার কিছু বলার আগেই আমি বেরিয়ে এলাম। অনেকদিন পর আজ আমি মুক্ত। আমি আজ নতুন । 

উদাসীন আমি...... (প্রথম পর্ব)- http://tinyurl.com/9o2f34g

লিখেছেন-মনপাখি

Tuesday, 7 August 2012

Letter: প্রিয় পিংকি , এই চিঠি দেয়ার কারন হচ্ছে তুই আমার

প্রিয় পিংকি ,
এই চিঠি দেয়ার কারন হচ্ছে তুই আমার
খুব পছন্দের !! তুই ও দেখি সব সময়
ক্লাসে আমার দিকে তাকিয়ে থাকিস!!
এই জন্য আমার মনে হয় তুইও
আমাকে পছন্দ করিস !! অঙ্ক
পরিক্ষায় আমাকে একটু হেল্প করিস
প্লীজ !!
আর তুই লাল ফিতা আর পড়িস না!!
তোর পিছনের ওই
মেয়েটা এটাতে কালি লাগিয়ে দেয় এই
জন্য আমার খুব রাগ লাগে !! ও আমার
পাশের বাসায় থাকে !! তাই
মাঝে মাঝে এই কালির বদলা নিতে ওদের
বাড়ির বেল বাজিয়ে আমি দৌড় দেই !!
আর শোন তুই ফেয়ার অ্যান্ড
লাভলি মাখিস !! তাহলে তোকে আরও
সুন্দর লাগবে!! তোর পাশের মেয়েটা, ঐ
যে চিঙ্কি নাম, সে তো তোর চে ফরসা !!
কিন্তু আমি তো তোকেই পছন্দ করি,
কারন ও আমার কলম চুরি করছে !!
চিঠি পড়ে রাগ হইলে আমাকে ফেরত
দিয়ে দিস, স্যারকে দিস না প্লীজ!!
তোর প্রিয়
-পিংক

Tuesday, 31 July 2012

Story: জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শিখো

©©© জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শিখো ©©©



একদা এক গরীব জেলে সমুদ্রের পাড়ে একটি গাছের ছায়ার নিচে বসে ধূমপান করছিলো। এমন সময় এক ধনী ব্যবসায়ী ঐ দিক দিয়ে যাচ্ছিলো। জেলেকে বসে থাকতে দেখে তার দিকে এগিয়ে গেল ব্যবসায়ী এবং জিগ্যেস করলো কেন সে মাছ ধরা বাদ দিয়ে পাড়ে বসে ধূমপান করছে। এই প্রশ্নের জবাবে গরীব জেলেটি জানালো সে ঐ দিনের জন্য যথেষ্ট পরিমান মাছ ধরে ফেলেছে। 

এই কথা শুনে ধনী ব্যবসায়ী রেগে গেল এবং রাগীস্বরে বালতে লাগলোঃ
এই ছায়ায় নিচে বসে থেকে অযথা সময় নষ্ট না করে কেন তুমি অতিরিক্ত মাছ ধরছো না?
জেলেটি জিগ্যেস করলোঃ আরো বেশি মাছ ধরে আমি কি করবো?
ব্যবসায়ীঃ তুমি বেশি মাছ ধরে, সেগুলো বিক্রি করে বেশি টাকা উপার্জন করতে পারো এবং আরো বড় নৌকা কিনতে পারো।
জেলেঃ এরপর আমি কি করবো?
ব্যবসায়ীঃ তুমি গভীর জলে যেতে পারবে, সেখান থেকে আরো বেশি মাছ ধরে বিক্রি করে আরো অধিক টাকা উপার্জন করতে পারবে।
জেলেঃ তারপর আমি কি করবো?
ব্যবসায়ীঃ তুমি আরো অনেক নৌকা কিনতে পারবে, অনেক শ্রমিক তোমার হয়ে কাজ করবে এবং আরো অনেক বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবে।
জেলেঃ তারপর আমি কি করবো?
ব্যবসায়ীঃ এরপর তুমি আমার মত ধনী ব্যবসায়ী হয়ে যাবে।
জেলেঃ তারপর আমি কি করবো?
ব্যবসায়ীঃ এরপর তুমি তোমার জীবনটা শান্তিতে উপভোগ করতে পারবে।
জেলেঃ আপনার কি মনে হয়, আমি এখন কি করছি?

নীতিশাস্ত্রঃ তোমাকে সুখী হতে এবং জীবনটাকে উপভোগ করতে আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এমনকি তোমাকে আরো বেশি ধনী বা শক্তিশালীও হতে হবে না। জীবনটা হচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত, তাই এটাকে যথার্থ এবং পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করো।

“আমাদের ধন-সম্পদ বেশি থাকলেই আমাদের ধনী বলা হবে না বরং আমরা তখনই যথার্থ ধনী হবো যখন আমাদের জীবন থেকে চাহিদা বা পাবার আশা কম থাকবে।” 

Wednesday, 30 May 2012

Story: এক বাচ্চা ছেলে আর এক বাচ্চা মেয়ে খেলছিল.

এক বাচ্চা ছেলে আর এক বাচ্চা মেয়ে খেলছিল...

ছেলের কাছে মার্বেল ছিল,আর মেয়ের কাছে ছিল কিছু চকলেট!

ছেলেটি মেয়েকে বলল "তুমি যদি তোমার সব চকলেট আমাকে দাও 

তাহলে আমি আমার সব মার্বেল তোমাকে দেব"

মেয়ে রাজি হল। ছেলেটি সবচে সুন্দর একটা মার্বেল 

আলাদা করে রেখে বাকিগুলো মেয়েটিকে দিয়ে দিল।

অন্যদিকে মেয়েটি তার সবগুলো চকলেট ই ছেলেকে দিল!

রাতের বেলাতে মেয়েটি শান্তিতে ঘুমাল কিন্তু ছেলেটি শুধু চিন্তা করলো

মেয়েটিও কি তার মার্বেল এর মত কিছু চকলেট আলাদা করে রেখেছে??

যাকে ভালোবাসেন মন প্রাণ উজার করেই ভালোবাসুন...আপনি নিজে ১০০%
ভালো না বাসতে পারলে সবসময় সন্দেহে ভুগবেন, অন্যজন কি তার ১০০% দিচ্ছে!